Sayed Ahmad ⌕ English

নবীজির মহানুভবতায় বদলে গেল এক ইহুদির হৃদয়

নবীজির মহানুভবতায় বদলে গেল এক ইহুদির হৃদয়
নবীজির মহানুভবতায় বদলে গেল এক ইহুদির হৃদয় যায়েদ ইবনে সা‘নাহ ছিলেন একজন ইহুদি। একবার তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সঙ্গে একটি লেনদেন করেছিলেন। নবীজি ﷺ তাঁর কাছ থেকে কিছু ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত সময় তখনো আসেনি; বরং পরিশোধের জন্য আরও তিন দিন বাকি ছিল। একদিন রাসূলুল্লাহ ﷺ সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গে পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা.। এমন সময় হঠাৎ যায়েদ ইবনে সা‘নাহ ছুটে এসে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাপড় চেপে ধরলেন। অত্যন্ত কর্কশ ভাষায় বললেন— “হে বনী আবদুল মুত্তালিব! তোমরা ঋণ পরিশোধ করতে এত টালবাহানা কর কেন?” ভাবুন! সামনে কে দাঁড়িয়ে আছেন সমগ্র মানবজাতির শ্রেষ্ঠ মানুষ, আল্লাহর প্রিয় হাবীব মুহাম্মদ ﷺ। আর তাঁর কাপড় ধরে একজন মানুষ এমন কঠিন ভাষায় কথা বলছে! পাশেই ছিলেন হযরত উমর রা. সত্যের ব্যাপারে আপসহীন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্রকঠিন একজন সাহাবি। তিনি এ দৃশ্য দেখে আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না। রাগে তাঁর চোখ-মুখ লাল হয়ে উঠল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় রাসূলুল্লাহ ﷺ রাগলেন না। বরং মুচকি হাসলেন। তারপর অত্যন্ত কোমল কণ্ঠে হযরত উমর রা.-কে বললেন “হে উমর! আমি এবং সে আমরা দুজনই তোমার কাছ থেকে অন্য কিছুর মুখাপেক্ষী ছিলাম। তুমি আমাকে সুন্দরভাবে ঋণ পরিশোধের নির্দেশ দিতে পারতে, আর তাকে সুন্দরভাবে তার পাওনা চাইতে বলতে পারতে।” সুবহানাল্লাহ! কী অপূর্ব শিক্ষা! যাঁর ওপর অন্যায় করা হয়েছে, তিনিই নিজের সাহাবিকে বলছেন - তুমি আমাকে সুন্দরভাবে উপদেশ দিতে পারতে! এটাই নবীজির বিনয়। এটাই তাঁর চরিত্র। এটাই তাঁর মহানুভবতা। এরপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন “প্রকৃতপক্ষে তার পাওনা পরিশোধের সময় এখনো আসেনি। আরও তিন দিন বাকি আছে।” তারপর হযরত উমর রা.-কে নির্দেশ দিলেন “তার পাওনা পরিশোধ করে দাও এবং তাকে আরও ত্রিশ সা‘ পরিমাণ অতিরিক্ত দিয়ে দাও।” সুবহানাল্লাহ! মানুষ হলে হয়তো বলত “সময় হওয়ার আগেই পাওনা চাইছ! আবার এমন আচরণ করছ! তোমাকে একটা শিক্ষা দেওয়া দরকার।” কিন্তু নবীজি ﷺ প্রতিশোধ নিলেন না। অপমানের জবাব অপমান দিয়ে দিলেন না। বরং তাঁর প্রাপ্যের চেয়েও বেশি দিয়ে দিলেন। এই মহানুভবতা যায়েদ ইবনে সা‘নাহর হৃদয়কে নাড়া দিল। তিনি বুঝতে পারলেন এ কেমন মানুষ! আমি সময়ের আগেই পাওনা চেয়েছি। চাওয়ার ভাষাও ছিল কঠিন। এমনকি তাঁর কাপড় পর্যন্ত ধরে টেনেছি। অথচ তিনি আমাকে ধমক দিলেন না, অপমান করলেন না, প্রতিশোধ নিলেন না। বরং আমার পাওনা পরিশোধ করার পাশাপাশি আরও বাড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন! এমন চরিত্র কোনো সাধারণ মানুষের হতে পারে না! রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এই অনুপম আচরণ তাঁর অন্তরকে পরিবর্তন করে দিল। যে হৃদয় এতদিন ইসলামের আলো থেকে দূরে ছিল, সেই হৃদয়েই হিদায়াতের আলো জ্বলে উঠল। যায়েদ ইবনে সা‘নাহ ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উম্মতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলেন। আমাদের জন্য শিক্ষা আমরা সেই মহান নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর উম্মত। তাঁর চরিত্র ছিল ক্ষমার, তাঁর আচরণ ছিল ভালোবাসার, তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল ধৈর্য ও মহানুভবতার। তাই কেউ আমাদের সঙ্গে অন্যায় করলে আমরা কি একটু ক্ষমা করতে পারি না? কেউ কষ্ট দিলে আমরা কি একটু ধৈর্য ধরতে পারি না? কেউ খারাপ আচরণ করলে আমরা কি তার চেয়েও সুন্দর আচরণ করতে পারি না? আল্লাহ তাআলা বলেন “তারা যেন ক্ষমা করে এবং উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দিন?” সূরা আন-নূর: ২২ তাই আসুন, আমরা আজ একটি প্রতিজ্ঞা করি আমরা কাউকে অকারণে কষ্ট দেব না। কেউ আমাদের কষ্ট দিলে প্রতিশোধপরায়ণ না হয়ে ক্ষমা করার চেষ্টা করব। কেউ আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করলে আমরা উত্তম আচরণ দিয়ে তার জবাব দেব। কারণ আমরা মুহাম্মদ ﷺ-এর উম্মত। মনে রাখবেন! যে মানুষ ক্ষমা করতে শেখে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করার পথ খুলে দেন। আল্লাহ আমাদের নবীজির মহান চরিত্র ধারণ করার এবং ক্ষমাশীল, বিনয়ী ও সুন্দর আচরণের মানুষ হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
ভাষা: বাংলা · English
← সব লেখাসমূহ